চলছে আইপিলের দ্বাদশ আসর। ২৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চলবে প্রায় দেড মাস। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে দৌড়াত্ব বেড়েছে বাজিকর বা জুয়াড়িদের। এই আসনেই বাজি ধরে কেউ অনেকেই হচ্ছে নিঃস্ব।

চলতি আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলছেন সাকিব আল হাসান। তাই এই আসরে চোখ রেখেই অনেক বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তরা। তবে শুধু একা সাকিবের কথা বললে ভুল হবে আইপিএলে অংশে নেয় দেশ বিদেশের অসখ্যা নামিদামী ক্রিকটার। যাদের নিয়েই গড়ে উঠেছে বাজিকরদের বড় একটি সিন্ডিকেট।

প্রতিবার আইপিএলে কিংবা অন্যান্য ফ্রাঞ্জাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান গুলো তে বসে জুয়ার আসর। হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রতি ম্যাচে লক্ষ টাকা অবদি বাজি ধরা হয়। যে টাকা শোধ করতে না পারলে কখনো কখনো প্রাণও হারাতে হচ্ছে অনেককে। এই ঘটনাকে এড়ানোর জন্য চায়ের দোকান গুলোতে বাড়তি নজরে রাখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

জুয়ারির কোনো নিদিষ্ট বয়স নেই। ১৫ বছর থেকে শুরু করে সব বয়সের লোকেরাই বাজি ধরে। রাজধানীর মিরপুর, পুরান ঢাকা, টঙ্গী এবং কামরাঙ্গীরচরে বাজিকরদের বিচরণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে জুয়াড়িদের এ নতুন ধান্দায় বাদ নেই নগরীর অভিজাত এলাকাগুলো। ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন বিভিন্ন ভাবে। অভিজাত হোটেলে গিয়ে তাদের বাজি ধরার ধরনও কিছুটা ভিন্ন এবং অবশ্যই ‘বিগ বাজেট’।

বিভিন্ন ম্যাচ ঘিরে জুয়াড়িদের এ তৎপড়তা দেখা যায় গ্রাম-বাংলাতেও। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে চলে এসব জুয়ার বাজি। দলগত হার-জিত নির্ধারণ ছাড়া পাশাপাশি চলে ওভার বা ‘বল বাই বল’ বাজি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জুয়াড়ির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোন খেলোয়াড় বেশি রান পাবে, কে বেশি উইকেট পাবে, কে বেশি ছক্কা মারবে, কে বেশি চার মারবে, কোন বলে ‘চার’ বা ‘ছয়’ হবে-এসবের ওপর প্রতি মুহূর্তে চলে বাজি ধরার মাধ্যমে ক্রিকেট জুয়া। বাজিতে হেরে গেলেই গুণতে হয় টাকা।

চলতি আইপিএলে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে রবিবার জুয়া খেলার দায়ে ১৫ জনকে আটক করেছ সেখানকার পুলিশ। এছাড়া সোমবার দিল্ল ও কলকাতা ম্যাচে জুয়া খেলার সাথে জড়িত থাকায় আটক করা হয়েছে ভারতীয় নারী দলের সাবেক কোচ। তিনি সহ মোট ১৮ জনকে একটি ক্যাফে থেকে আটক করা হয়।

তবে শুধু আইপিএল নয় সব ধরণের খেলাতেই হর হামেশাই ধরা হচ্ছে বাজি। যা পুলিশের তৎপরতা সত্বেও দিন দিন আয়েত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। আস্তে আস্কে হচ্ছে সমাজের অবক্ষয়।