টানা বৃষ্টিতে বিশ্বকাপের নাম প্রথমে বৃষ্টি কাপে বদলে গিয়েছিল। এবার সেটা না ‘অভিযোগ কাপে’ রূপ নেয়! উইকেট আর অনুশীলন সুবিধা নিয়ে এর আগে আইসিসির কাছে বিচার চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এবার পাকিস্তানও বিচার দেওয়ার লাইনে দাঁড়াল। না আইসিসির বিরুদ্ধে নয়, তাদের অভিযোগ ভারতের চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের বিরুদ্ধে।

বিশ্বকাপে এর আগের ছয় ম্যাচে কখনোই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। গত বিশ্বকাপেও ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপণ বানানো হয়েছিল। এবারও এই ম্যাচকে সামনে রেখে ৪১ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছে স্টার স্পোর্টস। যেখানে দেখা গেছে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে পাকিস্তানের জার্সি পরা একজনকে শুভকামনা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের জার্সি পরা আরেক ব্যক্তি।

জবাবে পাকিস্তানের সেই সমর্থক বলছেন, ‘চেষ্টা করে যেতে হবে। যারা চেষ্টা করে, তারা কখনো হারে না। একদিন না একদিন ঠিকই সাফল্য আসবে। বাবা তো এমনটাই বলতেন।’

খোঁচাটা দেওয়া হয়েছে ঠিক এর পরেই। বিজ্ঞাপনের এই পর্যায়ে ভারতের জার্সি পরা একজন হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘চুপ পাগল, আমি এমনটা কবে বললাম!’ এই উক্তির মাধ্যমে স্টার স্পোর্টস বোঝাতে চেয়েছে, বিশ্বকাপে ভারত তো পাকিস্তানের ‘বাবা’! এরপর বিজ্ঞাপনের শেষে ‘হ্যাপি ফাদার্স ডে’ লিখে চোখ টেপার একটি ইমোজিও দেওয়া হয়েছে।

এ বিজ্ঞাপণ নিয়েই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের কাছে এ বিজ্ঞাপণ প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও এ ব্যাপারটি জেনেছে। যেহেতু এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা এ ব্যাপারে নিজেদের জড়ায়নি। বিসিসিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ‘টিভিসিটা নিয়ে পিসিবির পক্ষ থেকে এহসান মানি আইসিসির কাছে অভিযোগ করেছেন। আমি নিশ্চিত না মানি চিঠি লিখেছেন নাকি ফনে কথা বলেছেন কিন্তু আমরা জানি যে একটা অভিযোগ তোলা হয়েছে।’

স্টার স্পোর্টসের সেই বিজ্ঞাপনটি পাকিস্তান বোর্ড সভাপতির নজরে আসার পর তাদের সমালোচনার করতে কোন ছাড় দেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় আইসিসির এ ব্যাপারে দৃষ্টিপাত করা উচিত। স্টার স্পোর্টস বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার। তারা শুধুমাত্র ভারতের ব্রডকাস্টার না। তাদের অবশ্যই সব দলের জন্য নিরপেক্ষ থাকা উচিত।

এটা (বিজ্ঞাপনটি) খেলার অংশ নয়। পাকিস্তানের দিক থেকে আপনারা বাড়তি কিছু দেখবেন না। তারা সেখানে ক্রিকেট খেলতে গেছে, এতটুকুই। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। এটাকে এভাবেই রাখা উচিত।’