বুধবার টনটনে তার পাঁচ উইকেট পাওয়ার দিনেই আবার উঠে এলো সেই অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ। যা ফাঁস করলেন সাবেক অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক। পাকিস্তানের কলঙ্কিত ২০১০ ইংল্যান্ড সিরিজের অনেক আগেই মোহাম্মদ আমির স্পট ফিক্সিংয়ে জড়ানোর কথা স্বীকার করেছিলেন। দাবি সাবেক পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আব্দুল রজ্জাকের।

২০১০ সালে লর্ডসে ফিক্সিংয়ে জড়ান পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা পেসার মোহাম্মদ আমির। আর সেই ফিক্সিং নিয়ে নিজের আত্মজীবনীতে অনেক কিছুই লিখেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এবার সেই ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন আব্দুর রাজ্জাক।

তার দাবি, আমিরকে চড় মেরেছিলেন আফ্রিদি। এরপর আমির ফিক্সিংয়ের দায় স্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাক বলেন, ‘আফ্রিদি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেছিল। আমি ঘর হতে বের হতেই চড়ের শব্দ শুনি। এরপরেই আমির সব সত্য জানিয়ে দেয়!’

৩৯ বছর বয়সী রাজ্জাকের আর দাবি ইংল্যান্ডে কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার অনেক আগেই সালমান বাট ইচ্ছা করে ডট বল খেলছিলেন ম্যাচে। ‘‘আমি সব জানিয়েছিলাম আফ্রিদিকে। কিন্তু ও বলেছিল এ সব আমার মনের ভুল। সব কিছু ঠিকই আছে। কিন্তু আমি যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (২০১০) একটা ম্যাচে সালামনের সঙ্গে ব্যাট করতে নামি, আমি নিশ্চিত ছিলাম দলকে ও ডুবিয়ে ছাড়বে।’’

রাজ্জাক সালমানকে বলেন, সিঙ্গল নিয়ে স্ট্রাইক তাকে দিতে। কিন্তু তার পরামর্শ মতো খেলেননি সালমান। ‘‘ও যখন এই কৌশলে খেলতে অস্বীকার করল, আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যখন বুঝতে পারলাম ও কিছু একটা করতে যাচ্ছে তখন কড়া করে বললাম স্ট্রাইক আমায় দিতে। তার পরও প্রত্যেক ওভারে ও ইচ্ছে করে দুই-তিন বল খেলে আমাকে স্ট্রাইক দিচ্ছিল। আমি এ সব দেখে হতাশ হয়ে পড়ি, চাপের মুখে আউটও হয়ে যাই,’’ বলেন রাজ্জাক।

সালমান বাট, আমির এবং মোহাম্মদ আসিফকে স্পট ফিক্সিং মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রথমে তাদের সাসপেন্ড করা হয় ২০১০ সেপ্টেম্বরে। পরে ২০১১-র গোড়ার দিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাসনের শাস্তি। তিন ক্রিকেটারই শাস্তি কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন। তবে এর মধ্যে শুধু আমিরকেই পাকিস্তান দলে ডাকা হয় বিশ্বকাপের জন্য।