পুরো নাম জোফরা চিওকে আর্চার। জন্মেছেন বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন ২০১৩ সালে। এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। সাধারণত কোনো বিদেশি সাতবছর ইংল্যান্ডে বসবাস করার পরই সেদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পান। কিন্তু ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) সম্প্রতি সেই সময়টা তিন বছরে নিয়ে এসেছে। সুযোগটা দারুণ কাজে লেগেছে আর্চারের।

তাকেই বিশ্বকাপ দলে নেয়ার জন্য গোটা ইংল্যান্ডে এমন কোনো জায়গা নেই যে যেখান থেকে দাবি উঠেনি। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ডেভিড গাওয়ার থেকে শুরু করে এই সময়কার প্রায় সব ক্রিকেটার জোসেফ আর্চারকে ইংল্যান্ড দলে নেয়ার জন্য বেশ জোরেসোরেই দাবি তুলেন।

এই শ্লোগানে সম্ভবত সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেন-‘জোসেফ আর্চারকে সঙ্গে রেখে বাকি যে কোনো দশজনকে নিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল গড়া যেতে পারে!’ শেষপর্যন্ত সেই দাবির মুখে পড়ে ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ দলে বদল আনে। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে ছিলেন না আর্চার। চুড়ান্ত দলে সেই তিনি ঠিকই জায়গা করে নিলেন।

আর্চারের মধ্যে কি এমন বিশেষ কিছু দেখতে পেয়েছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা জানি সেই প্রসঙ্গে। মুলত ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে সাসেক্সের হয়ে খেলে প্রথম নজরে আসেন আর্চার। তারপর বিগব্যাশ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলে ভালো পরিচিতি পান তিনি। পারফেক্ট অলরাউন্ডার আর্চার। একহারা অ্যাথলিট শরীর। ফিল্ডিংয়েও চোস্ত। সঠিক লাইন ও লেন্থে বল রেখে ব্যাটসম্যানকে নাস্তানাবুদ করার দক্ষতা আছে তার। উইকেট শিকারি বোলার। এক্সপ্রেস গতি আছে। সঙ্গে নিশানাও নিখুঁত! ব্যাটসম্যানের গোড়ালিতে ইয়র্কার করতে পারেন।

আইপিএলে টানা দুই মৌসুম রাজস্থান রয়েলসের হয়ে খেলেছেন জোসেফ আর্চার। খুব যে পারফরমেন্স আহামরি ঘরানার তাও কিন্তু নয়। রাজস্থানের হয়ে ২১ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন ২৬টি।