‘মোঃ আজহারউদ্দিন’ ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে এমন একটি নাম যে নামের সাথে জড়িয়ে আছে ব্যাপক সাফল্য সেই সাথে ব্যর্থতা, বিতর্ক, স্ক্যান্ডাল, এবং ম্যাচ ফিক্সিং এর দায়। তিনি এমনই এক ব্যক্তি যার জীবনটা একটা মুভির মত। একটা মুভিতে যা যা থাকা দরকার সবই আছে তার জীবনে। ‘মোঃ আজহারউদ্দিন’ ১৯৯০ এর দিকে অধিকাংশ ম্যাচে ক্যাপ্টেনের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাকে ধরা হয় ইন্ডিয়ার অন্যতম সফল ক্যাপ্টেন হিসেবে। তিনি তার জীবনে ক্যাপ্টেন হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন সময়ে সর্বমোট ৯০টি ওয়ানডে ম্যাচ জিতিয়েছেন ইন্ডিয়াকে।

অতঃপর ২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেন ‘মহেন্দ্র শিং ধনি’ তার লাইফের ৯১ তম ম্যাচ জিতিয়ে ‘আজহারউদ্দিন’ এর এই রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। পাশাপাশি তার ঝুলিতে আছে ক্যাপ্টেন হিসেবে ১৪টি টেস্ট ম্যাচ জিতানোর রেকর্ড যা পরবর্তীতে ‘সৌরভ গাঙ্গুলী’ ভেঙ্গে দেয় ক্যাপ্টেন হিসেবে ২১টি টেস্ট ম্যাচ জিতিয়ে। ‘আজহারউদ্দিন’ টোটাল ২২টি সেঞ্চুরী করেন টেস্ট ক্রিকেটে অ্যাভারেজ হিসেবে ৪৫ এবং ৭টি সেঞ্চুরী করেন ওয়ানডেটে অ্যাভারেজ হিসেবে ৩৭। এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তার প্রথম ৩টি টেস্টেই সেঞ্চুরী অর্জন করেছেন। তার সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর ১৯৯ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে এবং একজন ফিল্ডার হিসেবে তিনি ওয়ানডে ম্যাচে ধরেছেন সর্বমোট ১৫৬টি ক্যাচ।

‘আজহারউদ্দিন’ এর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে যখন তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিয়ের অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সাউথ আফ্রিকান ক্যাপ্টেন ‘হানসি ক্রনজি’ তার ম্যাচ ফিক্সিয়ের কনফেশনে বলেন যে ‘আজহার’ তাকে সর্ব প্রথম বুকির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় অতঃপর ‘CID’ এই কেসের তদন্ত করে এবং ‘আজহারউদ্দিন’কে দোষী প্রমাণ করে রিপোর্ট প্রদান করে যার ফলে ‘ICC’ এবং ‘Board of Control for Cricket in India’ (‘BCCI’) ২০০০ সালে ‘আজহারউদ্দিন’কে সারা জীবনের জন্য ব্যান করে।

অবশেষে, ২০১২ সালে লম্বা সময় ধরে কেস চলার পর ‘অন্ধ্র প্রদেশ হাই কোর্ট’ ‘আজহারউদ্দিন’ এর উপর ম্যাচ ফিক্সিয়ের এর কারনে প্রদত্ত ব্যান ডিসমিস করে দেয়। এই ঘটনার পর দিল্লিতে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন “এটি একটি দীর্ঘ আইনি লড়াই ছিল, যা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা 11 বছর ধরে লড়েছি। এই কেস অনেক স্থগিত হয়েছে, পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু অবশেষে রায় এসেছে এবং আমি খুশি যে শেষ পর্যন্ত আদালত দ্বারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সিনেমা হলে আজহার ছবিটি শুরুর আগে মস্ত একটা লেখা আসবে যেখানে বলা হচ্ছে, এই ছবিটি নিন্দিত ক্রিকেটার মহম্মদ আজহারউদ্দিনের বায়োপিক নয়, এটি শুধুমাত্র বিনোদনের স্বার্থে কাল্পনিক ও নাটকীয়তার মোড় দেওয়া একটি গল্প। তবে যাই বলা হয়ে থাক না কেন ছবি শুরু হলে কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয় না চরিত্রগুলির অস্তিত্ব বুঝতে।

সবকিছু মিলে যাওয়া সত্ত্বেও নির্মাতারা এই ছবিতে বায়োপিক বলতে নারাজ। যদিও ১৩১ মিনিটের এই ছবিতে ক্রিকেটারের ছেলেবেলা, গোড়ার সাফল্য, ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে সময়কাল, সম্পর্কের জটিলতা, বিতর্ক সব আঙ্গিকগুলোই ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে এই ছবিতে, কিন্তু তবুও এছবি বায়োপিক নয়। আইনে ঘেরাটোপে যাতে না পরতে হয় তাই বাস্তব চরিত্রগুলিকে শুধুমাত্র প্রথম নাম ব্যবহার করে কাল্পনিক বানানোর বৃথা চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন মনোজ, কপিল, জাভেদ। যেমন রভিশ যাকে খুব সহজেই রবি শাস্ত্রীর চরিত্র বলে মেনে নেওয়া যায়। রবিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গৌতম গুলাটি। কিন্তু এই চরিত্রে অভিনয় করার আসল উপাদনগুলিতে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন গৌতম। এই ছবিতে মনোজ মানে মনোজ প্রভাকরকেই বোঝানো হয়েছে। ২০০০ সালের সেই বিখ্যাত স্টিং অপারেশন যেখানে আজহারের একাধিক সতীর্থ তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিং-এর অভিযোগ করেছেন।

সুত্র ঃ http://bioscopeblog.net