আসন্ন বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলটাই ঘোষণ করে দিলেন পাপন:

৩১ মে মাঠে গড়াচ্ছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। সংখ্যার হিসেবে যা আর মাত্র ৬৫ দিন দূরে। এই আসরবে সামনে এর মধ্যে প্রতিটি দল নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রতিটি দলই এর মধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের প্রথমিক দল সাজানোর পরিকল্পনার শেষ করেছে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোডও।

বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ দল। যার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৮ এপ্রিল। এই টুর্নামেন্টের পরই বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের মূল স্কোয়ার্ড ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে বিসিবি।

তবে আজ মিরপুরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজন প্রদর্শনী ম্যাচ দেখতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের স্কোয়ার্ড কেমন হতে পারে তার কিছুটা আভাষ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পাপনের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল দলে সাত নম্বর পজিশনে কে থাকছেন ? তবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পুরো স্কোয়াডের কারা থাকছেন এমটাইর আভাষ দিয়েছেন।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘সাত নম্বরে যদি দেখেন কে কে আছে, সাইফুদ্দিন আছে, মিরাজ আছে,সাব্বির আছে। আবার সৌম্য অনেক সময় নিচে নামতে পারে। কে খেলছে সেটা আমি এখনো জানি না। যদি ধরেন তামিম আর লিটন যদি ওপেন করে তাহলে তিন নম্বরে সাকিব খেলার সম্ভাবনা খুব বেশি। ও ওখানে খেলতে চায়। চারে তো মুশফিক। পাঁচে মিঠুন বা এ রকম কেউ একজন। ছয়ে রিয়াদ। সাতে তখন সৌম্য আসতে পারে। এছাড়া আছে সাব্বির।

এখন সাব্বির আছে, সাইফুদ্দিন আছে। কারণ তিন পেসার তো খেলাবে। মোস্তাফিজ আর মাশরাফি তো কনফার্ম। আরেকটা পজিশনের জন্য রুবেল আছে। তাসকিন আছে। একটা স্পিনার যদি খেলাতে হয় মিরাজকে নিতে হয়। এর বাইরে কি থাকতে পারে। এর বাইরে মোসাদ্দেক থাকতে পারে। আরেকটা পেসার নেওয়ার আমি কোন কারণ দেখি না। ব্যাটসম্যান হিসেবে সাত-আটের কথা ভাবলে মোসাদ্দেক আসতে পারে। আর তো জায়গা দেখি না। ওপেনার তো অলরেডি তিনজন আছেই। ওখানে চতুর্থ ওপেনার নেওয়ার কারণ নেই। চার-পাঁচ-ছয় বুকড।’

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে কোনো চমক অপেক্ষা করছে থাকছে না? প্রশ্ন করা হলো বিসিবি সভাপতিকে। তিনি বললেন, ‘চমকের বিষয় এখানে না। আমরা ১৫ জনের একটা দল বানাব। আপনি যদি নামগুলো দেখেন তাইলেই তো বুঝবেন।’

এবার তো পাপস সাহেব দলে ক্রিকেটারের পজিসন মোতাবেক দল ঘোষণা দিলেন। তিনি বলেন, ‘তামিম আর দুই ওপেনার। আমি ধরে নিচ্ছি সৌম্য, লিটন খেলে তাহলে তো শেষ (ওপেনার কোটা)। সাকিব, মুশফিক, রিয়াদকে তো আপনি বাদ দিতে পারেন না। তাহলে ছয়জন শেষ। আর আসেন তিনটা ফাস্ট বোলার- তাহলে মোস্তাফিজ, মাশরাফি, রুবেল আছেই। এরপর অন্তত একটা বেশি তো নিতেই হবে। কারণ পেসাররা চোটে পড়ে। তাহলে তাসকিন আর সাইফুদ্দিন চলেই এল। তাহলে এগারো হয়ে গেল। স্পিনার নিতে হবে মিরাজ তো নিতে হবে। বারোজন হলো। মিডল অর্ডারে ব্যাকআপ নিতে হবে, সেখানে মিঠুনের নাম আছে, সাব্বির আছে।’

এদিকে চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো ফর্মে আছেন, এনামুল হক বিজন, জহুরুল ইসলাম, ফরহাদ রেজা, মোসাদ্দেক, ইয়াসির রাব্বি ও শান্তরা। তবে এক প্রশ্নের জবাবে পাপন জানিয়েছেন, ঘরেয়া লিগ ভালো করলেও আন্তর্জাতিক লেভেলের ক্রিকেটটা অনেক আলাদা। তাই বিশ্বকাপের স্কোয়ার্ড তৈরিতে ঘরোয়া লিগের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে না।

তবে যাই হোক পাপন সাহেবের আভাষ দেওয়া দলটা মূলত এমন দাঁড়াচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ এবং মোসাদ্দেক সৈকত।