823 total views, 1 views today

সময়টা বড্ড বাজে যাচ্ছিল সৌম্য সরকারের। আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট-কোনো স্তরেই ব্যাটে রান নেই। বেশ লম্বা সময় ধরেই এই দশা তার।ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আগে নিউজিল্যান্ডেও সময়টা ভালো যায়নি। বিশ্বকাপের দলে তাঁকে দেখে অনেকেই কেন যেন তাই প্রশ্ন তুলছিলেন।

ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের উইকেটে সৌম্যের ব্যাটিং দলের জন্য জরুরি হবে, নির্বাচকদের এমন যুক্তিও মানতে চান না সমালোচকেরা।বিশ্বকাপের আগে অফফর্মে থাকা সৌম্যকে কেন স্কোয়াডে রাখা হলো প্রশ্নে মুখরিত ক্রিকেটপ্রেমীরা।

আজ সব সমালোচনা আর প্রশ্নের জবাব দিল সৌম্যের ব্যাট।প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন তিনি।প্রিমিয়ারের শীর্ষে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মুখোমুখি হয়ে বিকেএসপিতে আজ অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করলেন সৌম্য।

ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলতে সৌম্য সরকার আজ (বুধবার) সময় নিলেন ১৮২ মিনিট। এরআগে তার সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিলো অপরাজিত ১২৭। বিস্ময়করভাবে নতুন রেকর্ডটি গড়তে তিনি খেলেছেন ১২৭ বল। হাঁকিয়েছেন ৯টি বাউন্ডারির এবং ১১টি ওভার বাউন্ডারি।

তার অতিমানবীয় ইনিংসে ভর করে ব্রাদার্সের বিপক্ষে অল-আউট হওয়ার আগে ৩৩৪ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকার ও শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় অগ্রণী ব্যাংক।

ধারাবাহিকভাবেই সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্স ছিল তলানীর দিকে। গত ১০ ইনিংসে সৌম্য সরকারের রান ছিল – ০, ১৭, ২, ১, ১৪, ১০, ১২, ২৯, ৪৩, ৩৬ । বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পরও হাসেনি তার ব্যাট। ‘ডাক’ মেরেছিলেন তিনি। গত ১৯ এপ্রিল মিরপুরে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে।

নফিস ২৯ বলে ২৪ রান করে ইফতেখার সাজ্জাদের বলে আউট হলেও হাল ধরে এগোতে থাকেন সৌম্য। এক পর্যায়ে ব্রাদার্সের বোলিং তোপে ১৩৬ রানে চার উইকেট হারালেও, সৌম্য-ঋশি দাওয়ানের ব্যাটে চড়ে বিপর্যয় সামাল দিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক।

মাইশুকুর রহমানের বলে ইনিংসের ৪৬তম ওভারে কাটা পড়লে বিচ্ছিন্ন হয় সৌম্য ও ধাওয়ানের মধ্যকার ১৭১ রানের জুটির। সৌম্যর ফিরে যাওয়ার পর দলের হাল ধরে এগোতে থাকেন ধাওয়ান। তবে যোগ্য সঙ্গ পাননি।

ধাওয়ান অর্ধশতক পূর্ণ করে ৬৫ বল থেকে ৯ চার ও ১ ছয়ে ৮০ রানে অপরাজিত থাকলেও শেষ ওভারের প্রথম বলে আল-আমিন হোসেন রান-আউট হলে দলের জন্য কিছুই করতে পারেননি। বরং আক্ষেপ নিয়ে নির্ধারিত ওভারের ৫ বল আগেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ব্রাদার্সের বোলারদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন ও সোহরাওয়ার্দী শুভ নেন তিনটি করে উইকেট। আর মাইশুকুর রহমান ও ইফতেখার সাজ্জাদ উভয়েই লাভ করেন একটি করে উইকেট।