মঙ্গলবার ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের সময় অস্ট্রেলিয়ানদের চেয়েও অস্ট্রেলিয়ার বড় সমর্থকে পরিণত হয়েছিল উপমহাদেশের তিন দেশ- বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। এই তিন দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট সমর্থক চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার জয়। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার এই একটি জয়ের মধ্যেই যে নিজেদের ভাগ্য জড়িয়ে ছিল উপমহাদেশের এই তিন দেশের! বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকে থাকার জন্য অন্যতম বড় শর্ত ছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ডের হার। হয়েছে ও সেটি।

৭ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৭। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান ৫ নম্বরে। ম্যাচ বাকি ২টা। প্রতিপক্ষ ভারত এবং পাকিস্তান। টাইগারদের চাওয়া অন্তত একটি জয়। তাহলে পয়েন্ট হবে ৯। বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের চাওয়া, ইংল্যান্ড হারুক। ৮ পয়েন্ট নিয়েই থাকুক তারা। ইংল্যান্ড পরের দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের কাছেও হারুক- এই চাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা এই দুই দেশেরও।

৭ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান রয়েছে ৬ নম্বরে। তাদেরও বাকি দুটি ম্যাচ। এর মধ্যে অন্তত একটিতে  জিতলে হবে ৯ পয়েন্ট। সে ক্ষেত্রে সেমির সম্ভাবনা টিকে থাকবে তাদেরও। সে জন্য প্রধান শর্ত, ইংল্যান্ডকে হারতেই হবে তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে।

৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৭ নম্বরে। তাদেরও ম্যাচ বাকি তিনটি। তাদের এই তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষ হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভারত। লঙ্কানদের আশা, অন্তত দুটি জয়, তাহলে তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ১০।

উপমহাদেশের এই তিন দেশের চাওয়া- একটি কারণেই এক বিন্দুতে এসে উপনীত হয়েছে। সেটা নিজেদের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার স্বার্থ এবং এই তিন দেশেরই সামনে সবচেয়ে বড় বাধার নাম ইংল্যান্ড।

তবে টাইগারদের সেমিস্বপ্নের আরেক বাধা শ্রীলংকা। সেমিতে খেলতে হলে বাকি তিন ম্যাচের কমপক্ষে দুটিতে জিততে হবে তাদের। লঙ্কানরা যদি দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১০। সে ক্ষেত্রে লঙ্কানদের ছোঁয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কা এক ম্যাচ জিতলে এবং বাকি দুই ম্যাচ হারলেই কেবল তাদেরকে পেছনে ফেলার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।

তামিম মনে করিয়ে দিলেন, শ্রীলঙ্কাকেও হিসেবের বাইরে রাখা যাবে না। বিশ্বাস নেই পাকিস্তানকে দিয়েও। যখন-তখন চমকে দিতে পারে। তবে শেষমেষ আলোচনার চূড়ান্ত ধাপ গিয়ে ঠেকে একই বিন্দুতে। আগে নিজেদের কাজটা করতে হবে।