238 total views, 1 views today

ইস্টার সানডে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৯ জনে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন পাঁচশতাধিক মানুষ। এই হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যান লঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা। তবে পরিবারসহ কীভাবে বেঁচে গেলেন এই ভয়াবহ স্মৃতি শেয়ার করেছেন নিজের মুখেই।

হামলার দিন সকালে মা ও দাদির সঙ্গে নিজ শহর নিগম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান চার্চে যাওয়ার কথা ছিল শানাকার। তবে আগের রাতে অনুরাধাপুরা থেকে একশ ৭০ কিলোমিটার ভ্রমণের পর ক্লান্তির কারণে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বাড়িতেই থেকে যান শানাকা।

তিনি বলেন, সচরাচর আমি চার্চে যাই। কিন্তু সেদিন অনুরাধাপুরাতে যাওয়ার কারণে ক্লান্ত ছিলাম।

ওই চার্চ শানাকার বাড়ির কাছেই। সকালে বিস্ফোরণের শব্দে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। তারপর যে রোমহর্ষক দৃশ্য দেখেন, সেটা কল্পনাও করতে পারেননি শানাকা।

তিনি এ ব্যাপারে বলেন, ওই দিন সকালে আমি বাড়িতেই ছিলাম। বিকট একটা শব্দ শুনতে পাই। মানুষ বলছিল চার্চে বোমা হামলা হয়েছে। আমি দৌড়ে সেখানে গিয়ে যা দেখেছি, কখনো ভুলতে পারব না। পুরো চার্চ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অনেকের মরদেহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছিল, প্রাণহীন দেহগুলো টেনে বাইরে বের করছিলন লোকজন।

তিনি আরো বলেন, প্রথমেই আমার মনে হয়েছে, মাকে খুঁজে বের করতে হবে। যখন তাকে পেলাম, তাকে ওই এলাকা থেকে দূরে নিয়ে গেলাম। তারপর আমি দাদিকে খোঁজা শুরু করলাম। যখন আমি শুনলাম, তিনি ভেতরেই বসা ছিলেন, মনটা কেঁদে উঠল। যদি আপনি ওই দৃশ্যটা দেখেন, মনে হবে ভেতরে কেউই বেঁচে নেই। কারণ বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ আশেপাশের লোকজনকেও আহত করেছে।

অবশ্য সৌভাগ্যবশত শানাকার দাদিও বেঁচে গেছেন। শানাকা বলেন, মা জানালার কাছে ছিলেন। কাছের একটা পার্টিশনের কারণে তার গায়ে ওই বিস্ফোরণের তেমন কিছু লাগেনি। হালকা আঘাত লেগেছে। তবে তার পাশের অনেকেই মারা গেছেন।

তিনি আরো বলেন, দাদিকে যখন খুঁজে পাই, আমি ভাবিনি তিনি জীবিত থাকবেন। তবে সেটা হয়েছে। বিস্ফোরণে তার পাশের সবাই মারা গেছেন, অন্যদের শরীরের কারণে তার বড় ক্ষতি হয়নি। মাথায় আঘাত লেগে কিছুটা মাংস উঠে গেছে। তবে আমরা তাকে সার্জারির জন্য হাসপাতালে নিতে পেরেছি।