1,435 total views, 2 views today

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় ব্যাপক সংখ্যক মানুষ হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এমন ঘটনায় পুরো বিশ্বের মতো ক্রিকেট বিশ্বও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্ব তারকা ক্রিকেটাররা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ঘটনায় শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

দেশটির রাজধানী কলম্বোসহ অন্যান্য এলাকার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে কয়েক দফা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। ৫০০’রও বেশি মানুষ আহত। এদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় বার বার কেঁপে উঠছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। এখনও পর্যন্ত ৮বার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে।

আত্মঘাতী দুই জঙ্গি হিসেবে তদন্তকারী সংস্থা দু’টি নাম জনিয়েছে- মাওলানা জাহরান হাশিম এবং আবু মোহাম্মেদ। এই দু’জন ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত (এনটিজে) নামের উগ্রপন্থি মুসলিম সংগঠনের সদস্য। হামলায় ব্যবহার করা হয় ২৫ কেজি সি-৪ প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ।

যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবুও জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠান শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়াসুন্দরা। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, উগ্রপন্থি মুসলিম সংগঠন এনটিজে শ্রীলঙ্কার প্রধান গির্জাগুলোতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছে।

কলম্বোতে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনেও হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয় সতর্কবার্তায়। এনটিজে শ্রীলংকার একটি মৌলবাদী মুসলিম সংগঠন। গত বছর বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙার সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে সংগঠনটি নজরে আসে।

তবে হামলার ধরন নিয়ে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে রাজধানীর একটি গির্জায়। প্রায় আধ-ঘণ্টা পরে পরবর্তী হামলাগুলো ঘটে। সাবেক অধিনায়ক এবং লঙ্কান কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা তো টুইটারেই নিজের চোখের পানি ঢেলে দিচ্ছেন যেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তিনি লিখেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার খবর শুনে নিজেকে অসাড় মনে হচ্ছিল। এ ধরনের পাশবিক এবং বর্বর ঘটনার কোনো ঠাঁই এই পৃথিবীতে হতে পারে না।

পুলিশ বলছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ৭ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো সংস্থা কর্তৃক বাকিদের আটক করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃতদের এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। হামলাকারী এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছুই জানা যায়নি।