২০ বছর পর আবারও ইংল্যান্ডের মাটিতে মুখোমুখি বাংলাদেশ পাকিস্তান। সেবার নর্দাম্পটনে, এবার লর্ডসে। এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের খেলার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের সামনে এখনও সমীকরণ টিকে আছে। তবে সেটা অনেকটাই অসম্ভব একটি সমীকরণ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দু’দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের হিসাব-নিকাশ সামনে আনলে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ, শেষ ৫ বারের মুখোমুখিতে যে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে জোজন জোজন পিছিয়ে! শেষ ৫ লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতেছে চারটিতে, একটি পাকিস্তান। এমনকি শেষ চারটিই জিতেছে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালে ঘরের মাঠে ৩ ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এরপর গত বছর এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। সেখানে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল খেলেছিল টাইগাররা।

আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডসে বাংলাদেশ খেলবে অ্যাওয়ে জার্সি, তথা লাল জার্সি পরেই। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের মূল জার্সির রঙ প্রায় মিলে যাওয়ার কারণেই আইসিসির নির্দেশনাক্রমে বাংলাদেশ অ্যাওয়ে জার্সি, তথা লাল জার্সি পরেই খেলতে নামবে।

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠা এখন কার্যত অসম্ভব বললেই চলে। আজকের ম্যাচে পাকিস্তান ৩৫০ রান করলে বাংলাদেশকে ৩৮ রানে অল-আউট হতে হবে। পাকিস্তান ৪০০ রান করলে বাংলাদেশকে ৮৪ রানে অল-আউট করতে হবে। আর বাংলাদেশ যদি প্রথমে ব্যাট করে তা হলে পাকিস্তানের সেমিতে খেলার আর কোনও সুযোগ নেই। এমন একটা সময় পাকিস্তানের সমর্থকরাই তাঁদের দল নিয়ে ঠাট্টা-তামাশায় মেতেছেন।

কিংবদন্তিরা বলেন, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বনাম ভিক্টোরিয়ার এক ম্যাচে এক বলে ২৮৬ রান হয়েছিল। ১৮৯৪ সালের ঘটনা। ব্যাটসম্যান শট মারার পর বল গিয়ে আটকে গিয়েছিল একটি গাছের ডালে। সেই গাছটি ছিল মাঠের মধ্যেই। বিপক্ষ দলের ক্রিকেটাররা আম্পায়ারের কাছে আবেদন করেছিলেন, লস্ট বল ঘোষণা করার জন্য! কিন্তু আম্পায়ার মানতে চাননি। কারণ, বলটা গাছের ডালের ফাঁক থেকে দেখা যাচ্ছিল। তাই বল হারিয়ে যাওয়ার যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না। ওদিকে, ব্যাটসম্যান সিঙ্গলস নিয়ে ২৮৬ রান করেছিলেন।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা যতক্ষণ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে মেতেছিলেন ততক্ষণে ভিক্টোরিয়ার ব্যাটসম্যানরা সিঙ্গলস নিতে শুরু করেছিলেন। এর পর গাছ কেটে বল মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাতেও সাফল্য আসেনি। শেষে রাইফেল দিয়ে তাক করে গুলি ছুড়ে বল ফেরত আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ২৮৬ রান তুলে ফেলেছিল ভিক্টোরিয়া। এই ম্যাচের কোনও রেকর্ড নেই। তাই এটাকে নেহাতই ক্রিকেটীয় রূপকথা বলে ধরা হয়।